৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল রাজধানী - The News Lion

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল রাজধানী

 


দি নিউজ লায়নঃ   ৯ বছরের এক দলিত শিশুকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। জনতার বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন রাজনৈতিক নেতারাও। অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে হাজারো বিক্ষোভকারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও স্বশরীরে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।  গত ১ আগস্ট (রোববার) সন্ধ্যায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের পুরোনো নাঙ্গাল এলাকায় নৃশংস এই ঘটনা ঘটেছে।


 বাড়ির পাশেই শ্মশানঘাট। সেখান থেকে ঠান্ডা জল আনতে যায় নয় বছরের দলিত মেয়েটি। শ্মশানেই তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে তার মরদেহ চিতায় তোলা হয়। এসময় ঘটনা টের পেয়ে যান স্থানীয়রা।      নিহতের পরিবার ও এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করলে প্রায় চব্বিশ ঘন্টা পর দিল্লি পুলিশ অভিযুক্ত এক পুরোহিত ও তার তিন সঙ্গীকে গ্রেফতার করে।


 তবে দলিত সংগঠনগুলো বলছে, মেয়েটি যেহেতু দলিত বা নিম্নবর্ণের তাই এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হবে কীনা তা নিয়ে শঙ্কিত তারা।  অবশ্য দিল্লি সরকার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার নাঙ্গাল শ্মশানঘাটে জড়ো হন হাজারো বিক্ষোভকারী। সে সময় তারা অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। পুলিশ সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে নির্যাতিত ওই শিশুর পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ এনে তাদের প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।  


এদিকে রাজনীতিবিদরাও এ ঘটনার প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। মঙ্গলবার এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছিলেন কংগ্রেসের সাংসদ রাহুল গান্ধী। এর পরেই বুধবার সকালে তিনি নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছান। সূত্রের খবর, ‘আমি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনারা ন্যায় বিচার চান,  অনারা জানিয়েছেন সেটা পাচ্ছেন না। আমরা ওনাদের সাহায্য করব।’  তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) টুইটারে লিখেছেন, দেশজুড়ে নারীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। তফসিলি সম্প্রদায়ের উপরও অত্যাচার হচ্ছে। 


আর এই সমস্ত ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতটা অসংবেদনশীল।  কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইটারে লিখেছেন, ওই নাবালিকার সঙ্গে যা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তার পরিবারের এখন কী অবস্থা সেটা ভাবুন। দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনি উত্তরপ্রদেশে গিয়ে সার্টিফিকেট বিলি করছেন। কিন্তু নিজের দায়িত্বই পালন করতে পারছেন না।  দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইটারে লিখেছেন, লজ্জাজনক ঘটনা। দিল্লির আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি প্রয়োজন। দোষীদের শাস্তি চাই।  ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির মহিলা কমিশন। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.